বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিপরীতে ঢাকায় মাতৃসেবায় বড় পদক্ষেপ!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও নাজিরাবাজার মাতৃসদনে মিডওয়াইফারি-নেতৃত্বাধীন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (SRH) সেবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এই যুগান্তকারী সেবার উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া। প্রান্তিক নারীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে একটি জীবন বদলে দেওয়া উদ্যোগ।
ডিএসসিসি জানায়, অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশন কমিয়ে নগরবাসীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গুণগত পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী যাতে সহজেই মানসম্মত মাতৃসেবা পায়, সেটাও এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (সিডা), জাইপাইগো বাংলাদেশ এবং ডিএসসিসি‘র যৌথ উদ্যোগে প্রণীত এই প্রকল্প পুরান ঢাকার প্রায় ৮ লাখ মানুষের মাঝে সার্বক্ষণিক নিরাপদ মাতৃসেবা পৌঁছে দেবে।
বিশেষ করে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ ও চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসবকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সেবার ৯০ শতাংশ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। এতে করে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়বে এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “মুনাফার লোভে আজকাল বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতে মায়ের শরীর ও সন্তানের ভবিষ্যত—উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এই মিডওয়াইফারি সেবা সেই ভয়াল চক্র ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ডিএসসিসির প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিডওয়াইফারি ভিত্তিক এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দৃষ্টান্ত।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিডা, ইউএনএফপিএ, দেশি-বিদেশি এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঢাকার নারীরা পাবেন একটি নিরাপদ, সচেতন ও মানবিক মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা।